ছবিঃ সংগৃহীত
জোটের বাইরের দেশ থেকে আসা প্রতিটি পার্সেলে রোববার থেকে দুই ইউরো (২ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার) হ্যান্ডলিং ফি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চীন থেকে বিপুল সংখ্যায় আসা ছোট পার্সেলের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতেই নতুন এ ফি চালু করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে আর বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে কার্যকর হলো এই ফি। ফলে ছোট পার্সেলে আগে থেকে থাকা তিন ইউরো শুল্কের সঙ্গে এখন যোগ হচ্ছে দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি।
ইইউর বাইরের কোনো দেশ থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পাঠানো পার্সেলে যত ধরনের পণ্য থাকবে, প্রতিটি ধরনের ওপর এ ফি প্রযোজ্য হবে—পার্সেলের দাম যা-ই হোক না কেন।
ধরা যাক, একটি পার্সেলে ১০টি টি-শার্ট আছে; সে ক্ষেত্রে হ্যান্ডলিং ফি দুই ইউরো। কিন্তু সেই পার্সেলেই যদি ১০টি টি-শার্টের সঙ্গে দুটি টুপিও থাকে, তবে দুই ভিন্ন ধরনের পণ্যের জন্য ফি দাঁড়াবে চার ইউরো।
এর আগে গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম দামের ছোট পার্সেলে তিন ইউরো শুল্ক বসিয়েছিল ইইউ। নতুন দুই ইউরো ফি সেই শুল্কের অতিরিক্ত।
ইইউর দাবি, নতুন হ্যান্ডলিং ফি ভোক্তাদের সরাসরি দিতে হবে না; তবে অনলাইন খুচরা বিক্রেতারা বিক্রির আগে পণ্যের দামের সঙ্গে দুই ইউরো জুড়ে দিতে পারবেন।
এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ভোক্তা অধিকার সংস্থা (বিইইউসি)। সংস্থাটির আশঙ্কা, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কেনাকাটার একেবারে শেষ ধাপে এসে ক্রেতার ঘাড়ে এ খরচ চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। বিইইউসি বলছে, ইইউর আইনে এমনটি বেআইনি, কারণ আইন অনুযায়ী কেনাকাটার শুরুতেই ক্রেতাকে পণ্যের পুরো দাম জানাতে হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইইউতে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল ঢুকেছে, যার প্রায় ৯৩ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্য সাধারণত আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হয়ে ইউরোপে পৌঁছায়।
ব্রাসেলসের ভাষ্য, পার্সেলের এই বিপুল স্রোত শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে, বাড়ছে তাদের পরিচালন ব্যয়ও। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে আসা অর্থে শুল্ক বিভাগের এই বাড়তি কাজের খরচ মেটানো হবে।
গত জুলাইয়ে তিন ইউরো শুল্ক বসানোর পর ইউরোপে এ ধরনের পণ্যের আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত উপসংহারে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
চীনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইইউর নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনকারী খেলনাসহ নানা অনিরাপদ পণ্য ঢোকার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপ।
বিইইউসির কর্মকর্তা অগাস্টিন রেইনা বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে সীমিত জনবল ও সম্পদ নিয়ে শুল্ক বিভাগকে অবৈধ পণ্য আমদানি ঠেকানোর দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। অথচ ছোট পার্সেলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে।’
নতুন দুই ইউরো হ্যান্ডলিং ফি থাকবে স্থায়ীভাবে। তবে কম দামের পার্সেলে তিন ইউরো শুল্ক আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে চালু আছে, যা চলবে ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত। সেদিন থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত নিয়মে নির্ধারিত শুল্ক কার্যকর হবে।
হ্যান্ডলিং ফির পরিমাণ প্রতি দুই বছর পরপর পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে, যাতে শুল্ক কার্যক্রম চালানোর প্রকৃত খরচের সঙ্গে ফি সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়।